হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ৪ শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি বাচ্চু মিয়া বৃহস্পতিবার র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গলের কোম্পানি কমান্ডার কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, বাহুবলে চার শিশু হত্যার ঘটনায় র্যাব সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এরই অংশ হিসেবে সিলেটের বিশ্বানাথ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে শাহেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহেদ বলেন, রাতেই দেওরগাছ এলাকা দিয়ে বাচ্চু ভারতে পালিয়ে যাবে। বিষয়টি জানার পরে র্যাবের আরেকটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাচ্চু বাহিনী গুলি চালালে র্যাও পাল্টা গুলি চালালে বাচ্চু মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
বাচ্চুর মরদেহ বর্তমানে চুনারুঘাট হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গলের কোম্পানি কমান্ডার।
এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র কিলিং মিশনে অংশ নেয়া রুবেল মিয়ার (১৭) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত আব্দুল আলী ওরফে বাগল মিয়ার নির্দেশে এ কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৬ জনের একটি দল।
আব্দুল আলী ওরফে বাগল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (১৭), একই গ্রামের আরজু মিয়া (২০) ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বাচ্চু মিয়াসহ (২৫) মোট ৬ জন তাদের গ্রামের চার শিশুকে হত্যা করে।
নিহত শিশুরা হলো : বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া শুভ (৮), আবদাল মিয়ার ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭), আব্দুল আজিজের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও সুন্দ্রাটিকি আনওয়ারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার নুরানী প্রথম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল মিয়া (১০)।
তাদের মধ্যে শুভ, মনির ও তাজেল একে অপরের চাচাতো ভাই।