ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতির ৫০% টাকা পেতো ব্যাংক কর্মকর্তারা—অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করে পিওটর পেত ২০% এবং বাকি ৩০% চলে যেত আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের কাছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে কার্ড জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদ নাবির এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা ছোয়ার বাইরে। এ কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের দু'নারী সদস্য ইউক্রেনের এএনডি এবং রোমানিয়ার রোমিওকেও ধরতে পারেনি পুলিশ।
তবে রিমাণ্ডে থাকা অপারেশনাল প্রধান পিওটরসহ গ্রেপ্তার ব্যাংক কর্মকর্তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। বেরিয়ে এসেছে জালিয়াত চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড শাখা, আবাসিক হোটেলসহ ট্রাভেল এজেন্সির সদস্যদের জড়িত থাকার তথ্য বলেও জানান তিনি।
দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্র বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। বছরের হিসাব শেষে এই টাকা লোকসান হিসেবে দেখানো হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। গ্রেপ্তার করা হয়, কার্ড জালিয়াতি চক্রের অপারেশনাল প্রধান পিওতর ও তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে।
আর কার্ড জালিয়াতি চক্রের বাংলাদেশের মূলহোতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদ নাবির ৩ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে ফিরে গেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আর প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের দু'নারী সদস্য ইউক্রেনের এএনডি এবং রোমানিয়ার রোমিওকে বাংলাদেশ থেকে চলে গেছে জানুয়ারি মাসে। তবে তাদের ব্যাপরে ইন্টারপোল ও সশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।