রাজধানীর বনশ্রীতে দুই শিশু সন্তান নুসরাত ও আলভীকে হত্যার কথা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃত মা মাহফুজা মালেক জেসমিন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাবের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মিডিয়ার উইং এর পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ কথা বলেন।
মানসিক অবসাদ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে— উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার সময় এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। ছেলে মেয়ের পড়াশোনা এবং তাদের ভবিষ্যতের উদ্বিগ্নতা থেকে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জেসমিন র্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।
এর আগে বুধবার জামালপুর থেকে আটক করে নিহতদের মা, বাবা ও খালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়।
এ সময় ঢাকার র্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার সরোয়ার আলম বলেন, ঢাকার র্যাব-৩ এর এএসপি মোস্তাকের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করে। এর আগে সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ঢাকার র্যাব-৩ এ আনা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জামাল র্যাব-১৪ এর ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি জসিম উদ্দিন তাদের ২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে দুই ভাই-বোন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত জাহান অরণী ও নার্সারির ছাত্র আলভী আমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। স্থানীয় একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বনশ্রীর ওই চাইনিজ রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ও দুই বাবুর্চিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বাড়ির দুই দারোয়ান ও শিশু দুটির গৃহশিক্ষিকাকেও।
এদিকে, দুই সন্তান নুসরাত আমান (১২) ও আলভী আমানের (৬) মরদেহ মর্গে রেখে বাবা-মায়ের গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় এবং মামলা না করায় এ ঘটনা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।