রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে দুই ভাইবোন হত্যা মামলার আসামি তাদের মা মাহফুজা মালেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী এ আদেশ দেন।
পুলিশ রামপুরা থানা থেকে মাহফুজাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানালে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার রাতে জেসমিনকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করে র্যা ব। পরে, তাকে একমাত্র আসামি করে রাতেই মামলা করেন দুই শিশুর বাবা আমান উল্লাহ।
এদিকে, গতকাল সকালে র্যা বের মিডিয়া উইং এর পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছে, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা এবং তাদের ভবিষ্যতের উদ্বেগ থেকেই নিজ হাতে সন্তানদের হত্যা করেছেন জেসমিন। র্যা বের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেসমিন আরও স্বীকার করেছেন, হত্যার দায় থেকে বাঁচতেই চাইনিজ রেস্তরাঁর খাবারের বিষক্রিয়ার তাদের মারা যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।
মানসিক অবসাদ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে— উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার সময় এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। ছেলে মেয়ের পড়াশোনা এবং তাদের ভবিষ্যতের উদ্বিগ্নতা থেকে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জেসমিন র্যা বের কাছে স্বীকার করেছেন।
এর আগে বুধবার জামালপুর থেকে আটক করে নিহতদের মা, বাবা ও খালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়।
এ সময় ঢাকার র্যা ব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার সরোয়ার আলম বলেন, ঢাকার র্যা ব-৩ এর এএসপি মোস্তাকের নেতৃত্বে র্যা ব সদস্যরা তাদের আটক করে। এর আগে সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ঢাকার র্যা ব-৩-এ আনা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জামাল র্যা ব-১৪ এর ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি জসিম উদ্দিন তাদের ২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে দুই ভাই-বোন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত জাহান অরণী ও নার্সারির ছাত্র আলভী আমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। স্থানীয় একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বনশ্রীর ওই চাইনিজ রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ও দুই বাবুর্চিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বাড়ির দুই দারোয়ান ও শিশু দুটির গৃহশিক্ষিকাকেও।
এদিকে, দুই সন্তান নুসরাত আমান (১২) ও আলভী আমানের (৬) মরদেহ মর্গে রেখে বাবা-মায়ের গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় এবং মামলা না করায় এ ঘটনা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।