দুই সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে র্যা বকে যে কথা বলেছিল মাহফুজা মালেক জেসমিন—পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি একই কথা বলছে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান।
শনিবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুস্তাফিজ এ কথা সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, গত রাতে থানায় আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল সে খুব স্বাভাবিকভাবে বলছে, সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকায় তাদের হত্যা করেছি। আপাতত বক্তব্য অনেকটাই মিলে যায়। তারপরও এতে অন্য কোনো বিষয় বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, দুই সন্তান নুসরাত আমান অরণী (১৪) ও আমান আলভী (৬) হত্যার ঘটনায় তাদের বাবা আমানুল্লাহ স্ত্রীকে আসামি করে মামলাটি করেছেন।
দুই শিশুকে দাফনের পর মাহফুজাকে আটক করে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিয়ে আসে র্যা ব। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর র্যা ব জানিয়েছিল, সন্তানদের ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা’ থেকে নিজের স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলে-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন চল্লিশোর্ধ্ব মাহফুজা।
সন্তান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারকারী মাহফুজার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন ইতোমধ্যে উঠেছে। তবে র্যা ব বলছে, তাদের কাছে মানসিকভাবে সুস্থই মনে হয়েছে এ নারীকে।
মাহফুজা ও তার স্বামী আমানুল্লাহ সম্পর্কে চাচাত ভাই-বোন। পারিবারিক সম্মতিতে দেড় দশক আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। আমানুল্লাহর পোশাক শিল্পের ব্যবসা রয়েছে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাহফুজা কিছু দিন কলেজে শিক্ষকতা করলেও পরে তা ছেড়ে দেন।
পুলিশের কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে নিহতদের বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেক সময় যোগাযোগের দরকার হয়। তবে প্রায়ই তারা নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখছেন।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রামপুরার বনশ্রীর বাসা থেকে অরণী ও আলভীকে নিসাড় অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারে বিষষ্ক্রিয়া সন্দেহের কথা বলা হয়েছিল।
পরদিন ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পান। এরপর র্যা ব-পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। র্যা ব বলছে, ওই বিকালে দুই সন্তানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন মাহফুজা।
সেদিন ওই সময়ে ঘরে আমানুল্লাহ ছিলেন না। তার মা অর্থাৎ নিহত শিশু দুটির দাদি বাসায় ছিলেন। নাতি-নাতনিকে জামালপুরে কবর দেওয়ার পর তিনি সেখানেই রয়েছেন।
ঘটনার দিন কী হয়েছিল, সে সম্পর্কে জানতে নিহতদের দাদিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, বলেন তদন্ত কর্মকর্তা মুস্তাফিজ।