হবিগঞ্জে আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে বাহুবল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কাজী জিয়াউদ্দিনকে বরখাস্ত ও ওসি (তদন্ত) আবদুর রহমানকে বরখাস্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে এ সুপারিশ করা হয় বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং তদন্ত কমিটির প্রধান শহিদুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চার শিশু হত্যার মামলায় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির যে অভিযোগ ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে— এ কারণে বাহুবল থানার এসআই কাজী জিয়াউদ্দিনকে বরখাস্ত ও ওসি(তদন্ত) আবদুর রহমানকে বরখাস্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান তিনি।
এর আগে ২ মার্চ এ হত্যাকাণ্ডে ২য় দফা রিমান্ডে শেষে আসামি শাহেদ মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাউসার আলমের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। সেখানেই হত্যাকাণ্ডেরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ মামলায় ৪ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে আদালতে হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ডে আদেশ দেন বিচারক।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০), আবদাল মিয়ার ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।
৫দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে গ্রাম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ইসাবিল এলাকা থেকে বালি চাপা অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।