অপরাধ

মীর কাশেম আলী প্রসঙ্গে কিছু কথা

মীর কাশেম আলী
মীর কাশেম আলী

একাত্তরে আলবদর বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও গণহত্যার নায়ক মীর কাশেম আলী মূলত পরিচিত জামাতের অর্থের মূল জোগানদাতা হিসেবে। ১৯৭৭ সাল থেকে জামাতকে আর্থিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে কাজ করে গেছেন মীর কাশেম।

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন ইসলামী দেশ থেকে দেশের বিরুদ্ধ মিথ্যা তথ্য দিয়ে শত শত কোটি টাকা এনেছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এ যুদ্ধাপরাধী। বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে অঢেল অর্থ ব্যয় করে দেশী বিদেশী লবিস্ট নিয়োগ করে মীর কাশেম।

তবে শেষ পর্যন্ত নিজের কৃতকর্মের কাছে হার মানতে হল এই যুদ্ধাপরাধীকে। তার সামনে এখন শুধুই ফাঁসির দড়ি।

১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জন্ম নেয়া মীর কাশেমের বাবা ছিলেন চট্টগ্রামের টেলিগ্রাফ অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি। সেই সূত্রে চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা মীর কাশেম একাত্তরে ছিলেন চট্টগ্রাম ছাত্র সংঘের সভাপতি। পরে আলবদর বাহিনী গঠন করে চট্টগ্রামে গণহত্যা, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল হোতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের পরে দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকলেও ১৯৭৭ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করলে জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মীর কাশেম।

হাজার হাজার মুসলমান শহীদ হয়েছে, মসজিদ মাদ্রাসা ভেঙে ফেলা হয়েছে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইসলামী এনজিওর মাধ্যমে সৌদি সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ আনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সেই থেকেই দেশে শুরু হয় মীর কাশেমের উত্থানপর্ব। যার মূল লক্ষ্য ছিল জামাতকে শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাড় করানো।

১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের আমলে মীর কাশেমের প্রতিষ্ঠানিক উত্থান হয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ গঠনের মধ্যে দিয়ে। এরপর চিকিৎসাসেবা, পরিবহন,টেলিযোগাযোগ, গণমাধ্যম ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিচরণ করেন মীর কাশেম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে জামাতের যে ১২৭টি প্রতিষ্ঠাণের তথ্য উঠে এসেছে তার বেশীরভাগেরই নিয়ন্ত্রক ছিলেন মীর কাশেম।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই এ বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে দেশী বিদেশী লবিস্ট নিয়োগ করেছেন মীর কাশেম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যাসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ নামে একটি ল’ফার্মের সঙ্গে প্রায় পৌনে ৩০০ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ অর্থের তথ্য জানতে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তার এ অঢেল অর্থের কারনে আপিল বিভাগের রায় নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে দেয়া আপিল বিভাগের রায়ে সকল সন্দেহ, শঙ্কা,দূর হয়েছে বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

সেইসঙ্গে দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর সাধারণ জনগণের আস্থা আরো বেড়ে গেল বলেও মত তাদের।

দেশটিভি/এএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ