জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখা ‘আনসার আল ইসলাম’ নামে একটি সংগঠন।
শুক্রবার রাতে সাইট ইন্টেলিজেন্স তাদের নিজস্ব সাইটে দায় স্বীকারের বিষয়টি জানায়। এর আগে দেশের বিভিন্ন ব্লগার হত্যার দায় স্বীকারের সংবাদ এই সাইটটিই জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, আমরা হত্যার দায় স্বীকারের বিষয়টি এখনো জানতে পারিনি। তবে ধর্মীয় উগ্রবাদিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখছি।
শুক্রবার রাতে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দায় স্বীকারের এই বার্তা প্রকাশ করা হয়। সূত্র রয়টার্স।
যদিও সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের খবরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। রয়টার্সও বলেছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই বার্তার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা আনসার আল-ইসলাম বলেছে, ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ ফেইসবুকে আল্লাহ, নবী মোহাম্মদ ও ইসলামকে অবমামনা করায় ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে তাদের সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র ২৭ বছর বয়সী নাজিমকে বুধবার রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সাইটের বক্তব্য হলো, তাদের কাছে পাঠানো বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা একিউআইএসের ওই বার্তায় বলা হয়, এই অপারেশন চালানো হয়েছে এই দেশের সেই সব ধর্ম অবমাননাকারীদের শিক্ষা দিতে, যাদের বিষাক্ত জিহ্বা লাগাতার আল্লাহ, ইসলাম ধর্ম ও রাসুলের অবমাননা করে যাচ্ছে।
এদিকে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে এর আগে নাজিমুদ্দিন সামাদ ‘হুমকি পেয়েছিলেন’ বলে তার নিকটজনেরা জানিয়েছেন।
তার বন্ধুরা বলেন, হুমকি মাথায় নিয়ে কিছুদিন সিলেটের বিয়ানীবাজারে আত্মগোপনে ছিলেন নাজিম। দিন পনের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টও বন্ধ রেখেছিলেন। ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে নাজিমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তার স্বজনরাও।
ঢাকার জগন্নাথে আইন বিভাগে ভর্তির আগে ২০১৩ সালে নাজিম ছিলেন সিলেটের লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সেসময় গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে সব কর্মসূচিতে নাজিম সক্রিয় ছিলেন।