কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক মাস পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন সেনানিবাসের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেও জানিয়েছে সিআইডি। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে তিন থেকে চার জন জড়িত বলেও ধারনা তাদের।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তনু হত্যার বিষয়ে সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।
এদিকে, সন্ধ্যায় প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানাকে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।
দুপুরে কুমিল্লা সেনানিবাসে গিয়ে তনুর বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আবারো কথা বলেন সিআইডি কর্মকর্তারা।
গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে বাড়ির অদূরে একটি কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২১ মার্চ অজ্ঞাত দুই জনকে আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ।
তবে গত ২০ দিন ধরে মামলাটি নিয়ে কাজ করা সিআইডির তদন্ত দল জানিয়েছে, তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে নয়, বরং পরিকল্পনা করেই তনুকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোথাও হত্যার পর তনুর মরদেহ কালভার্ট এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে।
এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে মঙ্গলবার চার সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সিআইডির তদন্ত সহায়ক দল ও তদন্ত কর্মকর্তারা। এছাড়া তনুর প্রথম ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেন তারা।
গত এক মাসে তনুর পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ৫২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করা গেছে বলেও দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, নমুনা সংগ্রহের জন্য গত ৩১ মার্চ তনুর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হলেও এখনো পর্যন্ত এর রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তনুর সহপাঠিরা।
কুমিল্লার সংস্কৃতি কর্মীদের অভিযোগ,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাফিলতির কারণেই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হতে সময় লাগছে।
তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আখন্দ ও কুমিল্লা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খানের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের দল তদন্ত করছে।
উল্লেখ, গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে বাড়ির অদূরে একটি কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২১ মার্চ অজ্ঞাত দুই জনকে আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ।