আবারো খুন হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক— এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এ নিয়ে গত ১২ বছরে হত্যার শিকার হয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষক। চরমপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারনা করছে পুলিশ।
এদিকে, এ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য রাজশাহী শহরের শালবাগানের নিজ বাড়ি থেকে প্রতিদিনের মতো বের হন অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী। বাসা থেকে ২০০ গজ পথ না পেরোতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, দুর্বৃত্তরা প্রত্যেকেই ২২ থেকে ২৩ বছর বয়সী।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত সহজ-সরল মনের মানুষ অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী। ভালো সেতার বাজাতেন। কমলগান্ধা নামের একটি সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন তিনি।
রেজাউলের সহকর্মী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতবাক।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. শামসুদ্দিন, আঘাতের ধরন দেখে মনে হচ্ছে চরমপন্থিরাই তাকে খুন করেছে।
সাম্প্রতিক লেখক-ব্লগার হত্যা এবং এর আগে ২০১৪ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউল ইসলাম লেনিনকে যেভাবে হত্যা করা হয় এবারের হত্যাকাণ্ড একই ধরনের।
এর আগে ২০০৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি খুন হন ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ। ওই হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার এক সহকর্মী ড. মিয়া মহিউদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। আর ২০০৪ সালে নৃশংসভাবে খুন হন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউনুস। ওই ঘটনায় দুই জেএমবি সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।