প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত আরো তিন জনের নাম বলেছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।
শফিক রেহমানকে তৃতীয় দফা রিমান্ডে নিয়ে প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ।
রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জয়কে অপহরণ চেষ্টা ও হত্যার পরিকল্পনার ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে বেশ কিছু অর্থ শফিক রেহমানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া হয়েছে। এফবিআই এজেন্টকে এ টাকা দেয়ারও তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।
তিনি আরো বলেন, এ ষড়যন্ত্রের অর্থ যোগানদাতাসহ ওই তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
এর আগে শুক্রবার জয় অপহরণের এ পরিকল্পনায় বিএনপির অন্য কোনো নেতা জড়িত কি-না? তা জানতে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখিয়ে প্রথমধাপে ৫ দিনের রিমাণ্ড শেষে নতুন করে ৭ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করে পুলিশ। দ্বিতীয়ধাপে তার ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করে আদালত।
প্রসঙ্গত, জয় সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার জন্য এক এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের কারাদণ্ড হয়।
মার্কিন আদালতে প্রসিকিউশনের নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণ, ভয় দেখানো ও ক্ষতি করাই ছিল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য। সিজার কিছু তথ্য একজন সাংবাদিককে সরবরাহ করেছিলেন এবং বিনিময়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলারও পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
আর জয় সম্পর্কে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত তথ্য পেতে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় দণ্ডিতদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের কথা শফিক রেহমান স্বীকার করেছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করেছে।
গত ১৬ এপ্রিল নিজ বাসা ইস্কাটন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তিনি বিএনপির নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে পল্টন থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যা পরিকল্পনা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।