ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশিন ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে অধিকারকর্মী ও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান এবং নাট্যকর্মী তনয়ের ৪ হত্যাকারীকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। খুনিচক্রকে ধরতে মাঠে নেমেছে তারা।
ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ৫ খুনির দৌঁড়ে পালানোর দৃশ্য ও একই সময়ে আরো ৩ যুবকের সন্দেহজনক গতিবিধিও ফুটেজে স্পষ্ট। এ ঘটনায় আরো আলামত পুলিশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এ হত্যা মিশনে মোট কতো জন অংশ নিয়েছে তা এখোনো নিশ্চিত নয় পুলিশ।
খুনের পূর্ব মুহূর্তের বর্ণনা উঠে এসেছে নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লার কথায়। হত্যাকাণ্ডে বাড়ির বাইরে ও ভিতরে মোট ৭ জন অংশ নেন।
খুনিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আছিয়া নিবাসের কয়েকশ গজ দূরের একটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে।
ফুটেজে স্পষ্ট করেই দেখা যায় খুন করে দৌঁড়ে পালায় ৫ যুবক। ওই সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন আরো ৩ জনকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। যারা হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরই ওই স্থান ত্যাগ করে।
একজনকে পুলিশের এক সদস্য জাপটে ধরলে তাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে খুনিরা। তবে একটি ব্যাগ ও একটি মোবাইল পেয়েছে পুলিশ। ব্যাগে অস্ত্র, গুলিসহ নয় ধরনের আলামত রয়েছে।
আর মোবাইলে পাওয়া তথ্য অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াও বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা বেশ কিছু আলামত পেয়েছেন। তবে ‘তদন্তের স্বার্থে’ এখনি কিছু বলছেন না।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডে অনেক দিন আগে থেকেই অধিকারকর্মী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল খুনিরা। কখন বাসায় ফেরেন, বাসায় কে কে থাকেন, কোন সময়টা নিরাপদ। হত্যার পর একটি টুইট বার্তায় এর দায় স্বীকার করা হয়েছে।
জুলহাজ মান্নানের ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক কোনো লেনদেন কিংবা এর পিছনে জঙ্গিরা রয়েছে কি-না? সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
গত সোমবার লেক সার্কাসে ইউএসএইআইডি কর্মকর্তা সমকামি অধিকারকর্মী জুলহাজের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারি যুবকরা চাপাতি উঁচিয়ে ও গুলি ছুড়ে অনেকের সামনে দিয়েই দৌঁড়ে পালিয়েছিলেন।