টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দারকে (৫০) কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে।
গোপালপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল জলিল জানান, নিহতের স্ত্রী আরতি রানি শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ছয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আর ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমা উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে অন্য মামলাটি করেন গোপালপুর থানার এসআই মোকসেদুল আলম। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকৃতরা হলো: গোপালপুরের আলমনগর মাদ্রাসার সুপারইনটেনডেন্ট আমিনুল ইসলাম, গোপালপুর উপজেলা জামাতের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া ও ঝন্টু।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম খান (উত্তর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শনিবার গভীর রাতে মধুপুরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের দত্তবাড়ি থেকে আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার জানিয়েছেন, শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাদশা মিয়া ও ঝন্টুকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপালপুর পৌরসভার ডুবাইল বাজারে খুন হন নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দার (৫০)। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আরতী রানী অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে গোপালপুর থানায় একটি মামলা পুলিশের পক্ষ থেকে আরো একটি মামলা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটর সাইকেলে করে আসা আনুমানিক ২০-২২ বছর বয়সী তিন যুবক নিখিলকে ডেকে দোকানের বাইরে আনে এবং নিজেদের ব্যাগ থেকে ছুরি ও চাপাতি বের করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত নিখিল লুটিয়ে পড়লে খুনিরা মোটরসাইকেলে করে চলে যায়।
মো. হারুন মিয়া নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিখিলের দোকানের সামনে ধস্তাধস্তি দেখে তিনি এগিয়ে গেলে রক্তমাখা চাপাতি দেখিয়ে একজন তাকে বলে, আর সামনে এগোলে তাকেও জানে মেরে ফেলা হবে।
চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে যায়। পরে ওই ব্যাগ থেকে পাঁচটি ককটেল পায় পুলিশ।
জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টেলিজিন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে খবর এসেছে।
তবে ওসি আব্দুল জলিল বলছেন, নিখিল উগ্রপন্থিদের হাতেই খুন হয়েছেন কি-না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নিখিল তার ভাতিজি স্বর্ণাকে দুই বছর আগে ঢাকা থেকে ডিভোর্স করিয়ে আনেন। তখন থেকেই স্বর্ণার সাবেক স্বামী রুদ্র এ পরিবারের সবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।