রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া ফেরত এক যাত্রীকে আটকে পানি পান করিয়ে হাঁটানোর আড়াই ঘণ্টা পর টয়লেট সেরে ছয়টি সোনার বার দিয়েছেন তিনি।
পরপর চার গ্লাস পানি খেলেন। কাস্টমস হলে হাঁটাহাঁটি। আরও পানি পান। অস্ত্রোপচারের ভয়। এত সব ধাপ পার হয়ে অবশেষে শৌচাগারে যাওয়া। একে একে মলদ্বারে বিশেষ কায়দার লুকিয়ে রাখা ছয়টি সোনার বার বের করলেন বিমানযাত্রী নূর আলম। সেগুলো হাতে করে টেবিলে রেখে শুল্ক কর্মকর্তাদের বললেন, ‘এই নিন আপনার রাষ্ট্রীয় সম্পদ।’
নূর আলম নামে ওই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— তিনি খুলনার জাকির খানের ছেলে।
বিমানবন্দর শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান, নূর আলম মালয়েশিয়া থেকে আসা ওডি ১৬২ ফ্লাইটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা পৌঁছান।
বিমানবন্দরের ৬ নম্বর বেল্টের কাছাকাছি এলে গোয়েন্দাদের তার গতিবিধি সন্দেহজনক লাগলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় ‘আত্মবিশ্বাসী’ ভাব দেখিয়ে উল্টো ধমক দেয়ারও চেষ্টা করে নূর আলম। এরপর তাকে পানি পান করিয়ে, কাস্টমস হলে হাঁটানো হয়। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর ১ নম্বর বেল্টের টয়লেটে গিয়ে নূর আলম তিনটি সবুজ প্যাকেটে মোড়ানো ছয়টি সোনার বার গোয়েন্দাদের বুঝিয়ে দেন।
এর বাইরে তার কাছে আরও একশ গ্রাম সোনার অলঙ্কার ছিল জানিয়ে মইনুল খান বলেন, তার কাছ থেকে মোট ৭০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩০ লাখ টাকা।
নূর আলম ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এইভাবে সোনার পাচার করছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানান শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক।
গত পাঁচ মাসে সে ছয় বার দেশের বাইরে যাতায়াত করেছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার সঙ্গে কারা জড়িত তাও তদন্ত করে দেখবে শুল্ক গোয়েন্দারা বলে জানান তিনি।