বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা।
তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল– এমন ১১ জনের একটি তালিকা নিয়ে কাজ করছেন তারা। ১১ জন ওইসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা ছিলেন।
তিনি বলেন, ওসমান ফারুক তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচার ইকোনমি বিভাগের রিডার ছিলেন— ১১ জনের তালিকায় তার নামও রয়েছে আর ওই তালিকা ধরে তদন্ত সংস্থা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ওসমান গণির ছেলে ওসমান ফারুক ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
জানা গেছে, ওসমান ফারুক এর আগে একাধিক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে বিএনপিকে ‘ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’ করছে।
প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা ওসমান ফারুক বা বাকি দশ জনের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ এসেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। তবে গতবছর অক্টোবরে ময়মনসিংহ-৭ আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ এম এ হান্নানকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের সময় যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে তাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘টর্চার সেলের’ কথাও উঠে এসেছে।
মংমনসিংহের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন ময়মনসিংহের আদালতে হান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করলে বিষয়টি গতবছর ট্রাইব্যুনালে আসে। রহিমার করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর আব্দুর রহমানকে ধরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনা ক্যাম্পে নেয়া হয় এবং সেখানে নির্যাতন চালানোর পর তাকে গুলি করে হত্যা করেন হান্নান ও তার সহযোগীরা।
স্থানীয় রাজাকার সদস্যরা ওইসময় ময়মনসিংহ শহর থেকে নারীদের ধরে এনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যেত যা মামলায় অভিযোগ বলা হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একাত্তর সালের ২৩ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সেখানে ক্যাম্প খোলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালায় বানানো হয় আঞ্চলিক কমান্ড হেড কোয়ার্টার। আর ব্রহ্মপুত্র নদের তীর সংলগ্ন একটি বাড়িতে চালু হয় নির্যাতন কেন্দ্র।
ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় ধরে আনা অসংখ্য নারী-পুরুষকে সেখানে হত্যার পর পাশেই নদের তীরে মাটিচাপা দেয়া হয় ওই সময়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই স্থানটিকে ‘বধ্যভূমি’ ঘোষণা করে।