কলেজ ছাত্রী তনু হত্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের দুই সেনাসদস্য জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তার মা আনোয়ারা বেগম। তার অভিযোগ, কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি অনুষ্ঠানে গান না গাওয়ার অপরাধে তনুকে হত্যা করা হয়। আর এ ঘটনা এখন আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার সিআইডি কার্যালয়ে ডেকে এনে তনুর মা-বাবা ও চাচাতো বোনকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে আবারো নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন ও চাচাতো বোন লাইজু আক্তারসহ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।
পরে বিকেল ৪টায় তনুর বন্ধু মাহমুদ, শামীম ও দুপুর আড়াইটায় স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পী শান্তকে কুমিল্লার সিআইডি কার্যালয়ে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সিআইডি কার্যালয় থেকে বের হয়ে তনুর মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন-কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি অনুষ্ঠানে গান না গাওয়ার অপরাধে তনুকে হত্যা করা হয়। তিনি আরো বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদের বাসায় তনু টিউশনি করতেন।
গত ১৭ মার্চ সেনানিবাসের একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য তনুকে অনুরোধ করেন তারা। তবে তনুর শ্রীমঙ্গলে অন্য একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা থাকায় সে গান গাইতে পারবে না বলে তাদের জানিয়ে দেয়।
সেখান থেকে ফেরার পর ২০ মার্চ বিকেলে টিউশনির কথা বলে তনুকে সালমা আক্তার নামের এক মেয়ের মাধ্যমে ডেকে নেন সিপাহি জাহিদ। এরপর ওই রাতেই তার মৃতদেহ পাওয়া য়ায়।
তনু মা আনোয়ারা বেগম বলেন, এখন বিচার পাচ্ছিনা না, সান্তনা পাচ্ছি না। তাই মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি।
এদিকে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু গত ২০মার্চ খুন হন। ওই রাতে ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতর একটি ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন।