কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অবশেষে-রোববার সিআইডির কাছে জমা দিয়া হয়েছে।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী ফারুক হোসেন ও ডোম মাহে আলম সিআইডির কার্যালয়ে গিয়ে ওই প্রতিবেদন জমা দেন।
তনু হত্যা মামলার তদন্ত সহায়ক দলের এক সদস্য ও সিআইডির কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদন জমার সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম কার্যালয়ে ছিলেন না। তিনি দাপ্তরিক কাজে বাইরে আছেন।
প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, তিনি এ নিয়ে কোনো কথা বলবেন না।
প্রায় আড়াই মাস আগে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত হয়। আদালতের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এই ময়নাতদন্ত করে।
ওই সময় তনুর শরীরের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করায় সিআইডি। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।
ওই ডিএনএ প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে না—এমন অজুহাতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে এতদিন কালক্ষেপণ করে মেডিকেল বোর্ড।
পরে আদালতের নির্দেশে গত মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ডকে ডিএনএ প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। এরপর আজ দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিল মেডিকেল বোর্ড।
গত ২০ মার্চ খুন হন তনু— ওই দিন রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। তাতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে। তনুর মা-বাবাও ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।