রাজধানীতে শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শরিফের আসল নাম মুকুল রানা, তার পরিবারের এমন দাবির সঙ্গে পুলিশ একমত।
তবে পুলিশ বলছে, সে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, আর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য তো ছিলই। যদিও এ বিষয়ে তার পরিবার কিছু জানত না। শরীফ ওরফে মুকুলের পরিবার কট্টর জামাতপন্থী বলেও দাবি পুলিশের।
শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর মেরাদিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত শরিফুল, ওরফে শরিফই বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারী। পুলিশ বলছে, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য ছিল সে, তার অনেক ছদ্মনাম। সাকিব, সালেহ, আরিফ, হাদী। পুরস্কার ঘোষিত ৬ জঙ্গির একজন ছিল সে।
বিভিন্ন ছদ্মনামের কথা পুলিশ বললেও তার পরিবার জানিয়েছে তার আসল নাম "মুকুল রানা"। তারা বলছেন, মুকুল রানা সাতক্ষীরা কলেজে পড়ার সময় গত বছর ফেব্রুয়ারিতেই ঢাকায় চলে আসে, কোনো জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না।
মুকুল রানা’র পরিবার বলছে, এ বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি যশোরের বসুন্ধরা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মুকুলের শ্যালক সেখানের কোতয়ালি থানায় এবিষয়ে জিডি করেন, পুলিশ বিষয়টি স্বীকারও করেছে।
শরিফ ওরফে মুকুলের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার বিষয়ে তার পরিবার বলছে, সে প্রকৃত অপরাধী হলে প্রচলিত আইনেই তার বিচার হতে পারতো। তবে মুকুল নির্দোষ বলে দাবি তাদের।
শরীফের আসল নাম মুকুল রানা এ নিয়ে পুলিশের দ্বিমত নেই। তবে সাতক্ষীরা কলেজে পড়ার সময় থেকেই সে ছাত্রশিবির করতো, কয়েক বছর ধরে সে ঢাকায় থাকতো, শুধু পরীক্ষার সময় বাড়িতে যেতো।
পুলিশ এও দাবি করছে, শরীফ ওরফে মুকুলের বাবা জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায় তাকে। তার পুরো পরিবার কট্টর জামাতপন্থী বলেও দাবি পুলিশের।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, মুকুলের বাবা বর্তমানে ঘের ও ইরি ধানের বণ্টক তবে ৭-৮ বছর আগে ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন, মুকুলের দাদাও ছিলেন ডাকাত।