রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি খাল থেকে এবার ‘তিন ব্যাগ ইলেকট্রনিক ডিভাইস’ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার সকালে ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, খালের ৪ নম্বর ব্রিজের নিচ থেকে ‘ব্যাগ’ তিনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৮ জুন যেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সকালে ওই খালে আরো অস্ত্র থাকতে পারে এ সন্দেহে থেকে সেখানে ডুবুরি নামানো হয়।
ব্যাগে ‘ইলেকট্রনিক ডিভাইস’ পাওয়া গেছে জানালেও সেগুলো কী ধরণের যন্ত্র তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি মিজানুর।
গত ১৮ জুন ওই খাল থেকে সাতটি ট্র্যাভেল ব্যাগ ভর্তি ৯৭টি পিস্তল, ৪৬২টি ম্যাগাজিন, এক হাজার ৬০টি গুলি, ১০টি বেয়নেট ও ১০৪টি গুলি তৈরির ছাচ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন একই জায়গা থেকে আরো এক কার্টন ম্যাগাজিন উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের এ ঘটনায় উত্তরা থানায় একটি জিডি হয়েছে, ঘটনাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগকে।
গত সোমবার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, দিয়াবাড়িতে অস্ত্রের এত বড় মজুদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নাশকতার সুগভীর ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরার খালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি কোনো সাধারণ সন্ত্রাসীদের নয়—বড় ধরনের নাশকতার জন্য এগুলো মজুদ করা হয়েছিল।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, জ্বালাও-পোড়াও করে, তারাই এ অস্ত্র রেখেছিল—এগুলো উদ্ধার না হলে দেশে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো।
অস্ত্রের এ চালান কোনো ছোট সন্ত্রাসী নয় উল্লেখ করে এটি একটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বড় সন্ত্রাসী চক্রের কাজ বলেও দাবি করেন তিনি।
দেশকে অস্থিতিশীল ও বিদেশের কাছে হেয় করতেই এগুলো মজুদ করা হয়েছিলো বলে জানান আছাদুজ্জামান মিয়া।