রাজধানীর গুলশানে জিম্মি ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর তাদের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টিলিজেন্টে ছবি প্রকাশের পর ফেইসবুকে তাদের পরিচয় তুলে ধরেছেন সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতজনরা।
সাইট এবং পুলিশের প্রকাশ করা ছবির মধ্যে কয়েকজনের ছবির মিল থাকলেও নামের মিল নেই। এদিকে, নিহত জঙ্গিদের ছবির মধ্যে একজনের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে যোগাযোগ মাধ্যমে।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর পরই শুক্রবার রাতে আইএস সূত্রে পাঁচ জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে সাইট ইন্টেলিজেন্স। ছবি দিয়ে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়: আবু উমর, আবু সালাম, আবু রহিম, আবু মুসলিম ও আবু মুহারিব।
অন্যদিকে জিম্মি উদ্ধারের পর ঢাকায় পুলিশও শনিবার রাতে নিহত পাঁচ জঙ্গির মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করে। পুলিশ জানায় তাদের নাম- আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন।
আইএস ও পুলিশের প্রকাশ করা জঙ্গিদের ছবির মধ্যে অন্তত চার জনের ছবির মিল রয়েছে কিন্তু নামের মিল নেই। বাকি এক জনের ছবি একই ব্যক্তির কিনা তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, সাইট ইন্টেলিজেন্টে ছবি প্রকাশের পর তাদের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুকে। প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে তিন জনের পরিচয় তুলে ধরেছেন তাদের সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতজনরা।
তাদের একজন নিব্রাস ইসলাম নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। সাবেক সহপাঠীরা তাকে শনাক্ত করে নিব্রাসের ও সাইটে দেয়া তার ছবি পাশাপাশি দিয়েছে ফেসইবুকে।
নিহত আরেক জঙ্গি মীর সাবিহ মুবাশ্বের স্কলাসটিকার ছাত্র। আগের ও সাইটের ছবি পাশাপাশি দিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করেছেন এক প্রবাসী। এ লেভেল পরীক্ষার আগে গত মার্চে মুবাশ্বের নিখোঁজ হন বলে তার এক সহপাঠীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন তিনি।
রোহান ইমতিয়াজ নামের আরেক জঙ্গির পরিচয়ও দেয়া হয়েছে ফেইসবুকে। সেও স্কলাসটিকার ছাত্র। মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল সে। বাবা-মার সঙ্গে তার ছবির পাশে সাইটের ছবি দেয়া হয়েছে। তার বাবা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল।
পুলিশ জঙ্গি বলে নিহত যে ছয় জনের কথা বলছে, তাদের মধ্যে একজনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ওই রেস্তোরাঁর এক শেফ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেফের পোশাক পরা তার আগের ছবির সঙ্গে ওই ব্যক্তির মৃতদেহের ছবির মিল রয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মি ঘটনায় দুই পুলিশ অফিসার রাতেই সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন। আর শনিবার সকালে ২০ জনের মৃতদেহ ও ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।