রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গিরই পরিচয় মিলেছে— এখন খোঁজা হচ্ছে এর মদদদাতা ও নেপথ্যের যোগসূত্র । নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে গুলশান থানায়।
টুইটারে প্রচারণা চালিয়ে হামলা করেছিল জঙ্গিরা কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এ ঘটনার মোটিভ এখনো অজানা। নিহত তিন জঙ্গি হামলার আগে বেশ কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ থাকলেও পুলিশ ও এদের স্বজনদের কাছে সবকিছুই ছিল অজানা। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত আরেক সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় জানা গেছে। তার নাম শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জল। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের কৈয়াগাড়ি গ্রামে তার বাড়ি।
পরিবারের দাবি, ছয় মাস আগে শেষবার বাড়ি গিয়েছিল সে। দীর্ঘদিনের জন্য তাবলিগের চিল্লায় যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বিদায় নেয় উজ্জ্বল। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পায়নি স্বজনরা।
গত শনিবার সকালে যৌথবাহিনীর জিম্মি উদ্ধার অভিযানের পর সন্দেহভাজন যে পাঁচজন হামলাকারীর ছবি প্রকাশিত হয় তার মধ্যে শফিকুল ইসলামের ছবিও আছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করে যে পাঁচ জনের ছবি প্রচার করেছে তাতেও তার ছবি ছিল। আইএস দাবি করেছে এই পাঁচ জনই তাদের সদস্য।
এর আগে যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজনের নাম খাইরুল ইসলাম ওরফে পায়েল। তার বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ব্রিকুষ্টিয়া গ্রামে। সে ডিহিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৫ সালে আলিম পাস করে ফাজিল শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এরপর এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিল সে।
বাকি তিনজনের মধ্যে ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাসটিকা থেকে ও লেভেল পাস করা মীর সামেহ মোবাশ্বের ও মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিবরাস ইসলাম।
এর মধ্যে রোহান গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে এবং মোবাশ্বের ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল বলে তাদের পরিবার থানায় সাধারণ ডাইরিও করেছিল।
এদিকে, পুলিশের জঙ্গি অপরাধীদের তালিকায় নিবরাস ও রোহানের নাম এসেছে চলতি বছরের শুরুতে। তাদের স্বজনদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যোগাযোগ করেও তাদের কোনো সন্ধান পায়নি তারা।
নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গিরা পরিবার থেকে উধাও হওয়ার পর থেকে হামলার আগ পর্যন্ত কোথায় কাদের আশ্রয়ে ছিল কারা তাদের জঙ্গি দলে ভিড়িয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।