রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় সবাই স্তম্ভিত ও হতবাক—এ ধরনের ঘটনা এ প্রথম মোকাবেলা করেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলার ঘটনার সময় ধারণ করা ফুটেজ, সন্দেহভাজনদের গতিবিধি, ঘটনার সময় মোবাইলে কথা-বার্তার সূত্র ধরে এগিয়ে চলছে তদন্ত কার্যক্রম।
হামলা সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ও বিষয় আমলে নিয়ে এগিয়ে চলছে তদন্ত। এরইমধ্যে আলোচনায় এসেছে হামলায় নিহত চার জঙ্গির স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে চলে যাওয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন বিগত দিনে এভাবে হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ তরুণদের তথ্য সগ্রংহ করছে। খুঁজে দেখা হচ্ছে নিহত হামলাকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পরিচিতদের গতিবিধি। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত দলের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানায়নি।
তিন জনকে সন্দেহের তালিকায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে হাসনাত করিম সাবেক নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটির শিক্ষককে গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তার ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ। তার বাবা রেজাউল করিম মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, তিনি নিশ্চিত নন তার ছেলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে। তবে হাসনাত করিম এমন কাজ করবে না বলেও মনে করেন তিনি।
আর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংদসীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী জানিয়েছেন, এ তদন্তে আরো সময় লাগবে।
গুলশান হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক মদদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জঙ্গি হামলায় নিহত ফারাজের শিক্ষক মিনু আক্তার বলেছেন, সময় এসেছে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে জঙ্গি বিষয় অর্ন্তভুক্ত করে তরুণ সমাজকে এর ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করার।
প্রসঙ্গত: গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল। এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরো ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন পুলিশ সদস্য।