বাংলাদেশে আরো জঙ্গি হামলার হুমকি দিয়ে প্রচারিত আইএস-এর কথিত ভিডিওটির বাংলাদেশি তিন তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রথম বক্তার নাম তাহমিদ রহমান শাফি। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে এক সময় গ্রামীণ ফোনে কাজ করতেন।
দ্বিতীয় হুমকিদাতা হচ্ছেন প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদের ছেলে তুষার। তিনি পেশায় ডেন্টিস্ট এবং বছর দুয়েক ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। আর ভিডিওতে মুখঢাকা যুবক তৌসিফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ'র সাবেক ছাত্র।
এদিকে, ভিডিওটি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, আইএস-এর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজানে রেস্তোরাঁর হামলার পর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে কথিত জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-আইএস। এতে তিন তরুণকে বাংলায় কথা বলতে দেখা যায়। বিশ্ব জুড়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ মঙ্গলবার রাতে ওয়েবসাইটে ভিডিওটি প্রকাশ করে।
প্রায় ৬ মিনিটের ভিডিওটির শুরুতেই দেয়া হয় ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে আইএসের দাবি করা হামলার বিবরণ। এমনকি গুলশানে জঙ্গিদের নৃশংস হামলার পর দেশে আরও হামলা চালানোর হুমকিও দেয়া হয় এতে। ভিডিওটিতে তিন তরুণ ঘোষণা করে খ্রিস্টান, ইহুদি, ক্রুসেডার ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ করছেন তারা।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রথম বক্তার নাম তাহমিদ রহমান শাফি।
তিনি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ ফোনে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটির এক সাবেক সহকর্মীর বরাত বিবিসি বাংলা এই তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া বছরখানেক আগে বিয়ে করার পর তাহমিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া চলে যান বলে বিবিসি বাংলা জানায়। কথিত এই জঙ্গি সঙ্গীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো ক্লোজ আপ ওয়ানের প্রথম সিজনে সেরা ১৫ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
আরেক ভিডিও বার্তাকারী তুষার পেশায় একজন ডেন্টিস্ট। প্রায় ২ বছর ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদের সন্তান এবং মডেল নায়লা নাঈমের সাবেক স্বামী। তুষার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসএসসি ও রাজউক থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস-এ তাদের বাসা।
ভিডিওতে মুখঢাকা যুবক তৌওসিফ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ'র সাবেক ছাত্র। বিবিএ১৮ ব্যাচে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শেষ না করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাড়েন তিনি। জেএমবি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অষ্ট্রিয়া পাঠানো হলেও তিনি সেদেশে নেই বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন।