রাজধানীর গুলশান হামলার ঘটনায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির মৃতদেহ। নিহত জিম্মিদের মৃতদেহ স্বজনরা নিয়ে গেলেও পাঁচদিন পরও কোনো হামলাকারীর মৃতদেহ নিতে কেউ আসেননি। স্বজনদের কেউ কেউ প্রথমে সন্তানের মৃতদেহ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও এখন আবার তাদের সে সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন। তবে কেউই মৃতদেহ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তোরায় জঙ্গি হামলায় ২০ জন জিম্মি নিহত হন। সেনাবাহিনীর কমাণ্ডো হামলায় নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। নিহত জিম্মিদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি ছাড়া সবাই বিদেশি। ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। জিম্মি নিহতদের মৃতদেহসহ হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির লাশ নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএইচে।
দেশি-বিদেশি নিহত জিম্মিদের মৃতদেহ এরই মধ্যে স্বজনরা নিয়ে গেলেও সিএমএইচে রয়ে গেছে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির মৃতদেহ। ঘটনার পরপরই স্বজনদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ তাদের মৃত দেহ না নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখন তাদের কেউ কেউ আবার লাশ নেয়ার কথা বলছেন।
এর মধ্যে নিহত জঙ্গি রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান বাবুল সন্তানের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রথমে রোহানের মৃতদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও এখন তিনি সন্তানের মৃতদেহ নিতে চাচ্ছেন।
আরেক জঙ্গি মীর সামেহ মোবাশ্বেরের বাবা মীর হায়াত কবিরও সন্তানের কর্মকাণ্ডেরর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানান কোথাও কিছু ভুল হয়ে গেছে। বাবা হওয়ায় সন্তানের মৃতদেহ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মৃতদেহ আনতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের বাবাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সন্তানের অপকর্মের জন্য। ভুলটা কোথায় ? ইন্টারনেট, নাকি অন্য কিছু সে নিয়েই ভাবছেন তিনি। তিনিও সন্তানের মৃতদেহ নিতে চান।
এদিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জল ও বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার খাইরুল ইসলাম ওরফে পায়েল এর স্বজনরা গুলশান হামলার পরেই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। মৃতদেহ নেযার ব্যাপারে ওই দু্ই পরিবারের পক্ষ থেকে এখোনো কিছু জানান যায়নি।