কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত জঙ্গি আবির রহমান বাবা-মার সঙ্গে বাস করতেন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। পড়াশোনা করতেন নিজ বাসার অদূরেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। বাসার দারোয়ানসহ অন্যান্যরা জানতেন মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করতে গেছেন আবির।
তবে এতদিন নিখোঁজ থাকলেও আবিরের বাবা সিরাজুল ইসলাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ঈদের আগের দিন।
পুলিশ বলছে, ছেলে কি উদ্দেশ্যে নিখোঁজ হয়েছেন এ বিষয়টি আঁচ করতে পারলেও এতদিন থানায় জানাননি সিরাজুল ইসলাম।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের ৩ নম্বর রোডের একটি বাড়িতেই থাকতেন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহর পাশে বোমা হামলাকারী নিহত জঙ্গি আবির রহমান। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী চার ভাইয়ের মধ্যে শুধু আবিরই থাকতেন বাবা মার সঙ্গে।
আবির পড়াশোনা করতেন বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছিলেন বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র।
আবিরের সঙ্গে কখনোই কোনো বন্ধুকে বাসায় যাতায়াত করতে দেখেননি বলে জানান বাসার নিরাপত্তারক্ষী।
চলতি বছরের মার্চের ১ তারিখে বাইরে খেতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আবির। এরপর থেকেই সে লাপাত্তা। বাসার নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্যান্যরা জানতেন সে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করতে গেছেন।
ছেলে এতদিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও থানা পুলিশকে কিছু জানাননি আবিরের বাবা সিরাজুল ইসলাম।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন তার ছেলে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে পারে। কারণ কিছু ইসলামী বই পাওয়া যায় আবিরের ঘর থেকে। গুলশান ঘটনার পরে গত ৬ তারিখে ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন সিরাজুল ইসলাম। তবে জিডিতে খুব বেশি কিছু লেখেননি তিনি।
ছেলের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীর মাধ্যমে জানানো হয় তিনি অসুস্থ।
এ বিষয়ে আজ- শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়।