অপরাধ

গুলশান হত্যাকাণ্ড: ধরাছোঁয়ার বাইরে পরিকল্পনাকারী-অর্থদাতারা

গুলশান  হত্যাকাণ্ড
গুলশান হত্যাকাণ্ড

রাজধানীর গুলশানে কূটনীতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হামলার পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতারা এখনো রয়েছে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সন্দেহভাজন দুই জিম্মিকে গোয়েন্দা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিস্কার করেননি তারা।

হামলাকারী পাঁচ জঙ্গিসহ পাঁচক সাইফুলের মৃতদেহ এখনো ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। মৃতদেহ নিতে এখনো কোনো যোগাযোগ করেননি কেউ।

পরিকল্পিতভাবে বিদেশিদের হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই গুলশানে চালানো হয়েছে জঙ্গি হামলা। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পাঁচ জঙ্গি। তবে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ধাপে ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিরোধে পরাভূত হয়ে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় তারা।

জঙ্গিদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ১৭ বিদেশি নাগরিক, তিনজন বাংলাদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক দল সব ধরনের আলামত সংগ্রহের পর চলছে তার প্রাথমিক পরীক্ষ-নিরীক্ষা। কারিগরি সহায়তা নিতে যোগাযোগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ভারতের সঙ্গে।

হামলার সময় জিম্মি থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও তাহমিদকে সন্দেহের তালিকায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দারা।

হলি আর্টিজানে জিম্মি থাকাবস্থায় তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হওয়ার পরপরই তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে এক সপ্তাহেরও অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও ওই হামলা তাদের ভূমিকা ছিল কিনা তা এখনো পরিস্কার করেনি পুলিশ।

হামলার তিন দিন পর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে আসামি করা হয় নিহত পাঁচ জঙ্গি, পাঁচক সাইফুলসহ অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলরা বলছেন, তদন্ত এগিয়ে চলছে।

তবে এখনো অজানা, এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষক কারা। কিভাবে হামলায় অংশ নেয়া পাঁচ জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

নিখোঁজের পর কোথায়, কিভাবে তারা কার তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাও এখনো অজানা। এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে এলেই হয়তো বেড়িয়ে আসবে আসল ঘটনা।

এদিকে, ঘটনার দশম দিনেও রোববার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। আর গুলশান এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা।

শুক্রবার ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল। এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরো ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন পুলিশ সদস্য।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ