মাগুরা শহরের কালী মন্দিরে পুরোহিতের খোঁজ নেয়া চার যুবককে মধ্যে তিন জনকে শনাক্ত করা পর আটক করেছে পুলিশ।
তারা হল: মাগুরা সদরের কাশিনাথপুর গ্রামের সুমন আহম্মেদ (২৫), রায়গ্রামের শাহাবউদ্দিন (২০) ও শহরের পারলা বেলতলা এলাকার আকাশ (২২)।
মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, মঙ্গলবারই জেলার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে আটক করা হয়েছে।
তাদের সঙ্গী অন্য যুবক শাহাব উদ্দিন লস্কর (২০) মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানায়।
সুমন সদরের আবালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমএলএসএস, আকাশ বেকারি ব্যবসায়ী। শাহাবুদ্দিন ও শাহাব উদ্দিন লস্কর সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
সোমবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন ওই যুবকরা তাবিজ ও তদবির নেয়ার কথা বলে মন্দিরের পুরোহিত পরেশ মজুমদারের খোঁজ করেন।
সমর কুমার নামে স্থানীয় এক দর্শনার্থীর কাছে তারা খোঁজ নেয় বলে জানান এসপিএহসান।
তিনি বলেন, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কালী মন্দিরে প্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে।
রাত ৮টার দিকে কাশিনাথপুর থেকে সুমন ও তার দেয়া তথ্যে শহরের জামরুলতলা থেকে অন্য দুজনকে আটক করা হয়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
গতকালে তথ্য:
মাগুরা শহরের নতুন বাজারে কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে চার যুবক গিয়ে পুরোহিতের খোঁজ করার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সোমবার পুরোহিতের ওপর হামলার জন্যই ওই যুবকেরা মন্দিরে এসেছিল তবে না পেয়ে তারা ফিরে যায়।
সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পর পুলিশ রাতভর মাগুরা শহরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ১০ আসামিকে আটক করলেও তাদের মধ্যে সেই চার যুবকের কেউকে পায়নি।
সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, মাগুরায় ওই চার যুবক রিকশায় চড়ে আসছে। এ ঘটনার পর মন্দির এলাকা এবং পুরোহিত পরেশ মজুমদারের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, রাত ১০টার দিকে তার কাছে খবর যায়- পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা ও দাড়িওয়ালা এক যুবক সন্ধ্যার পরপরই ব্যাগ হাতে কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে প্রবেশ করে। সন্দেহভাজন ওই যুবক তাবিজ ও তদবির নেয়ার কথা বলে মন্দিরের সামনে থাকা সমর কুমার নামে স্থানীয় এক দর্শনার্থীর কাছে পুরোহিত পরেশ মজুমদারের খোঁজ করেন।
তবে পুরোহিত মন্দিরে নেই এবং তিনি তাবিজ দেন না জানানো হলে তিনি তাবিজের পরিবর্তে ফুল নেয়ার কথা বলে আবারো পুরোহিত কখন আসবেন তা জানতে চান।
এসপি বলেন, ওই সময় স্থানীয় এক দর্শনার্থী ওই যুববকে জানান যে পুরোহিত সকালে আসবেন এবং অপরিচিত বা অন্য ধর্মের লোক হওয়ায় তাকে ফুল নিতে হলে পরিচিত কোনো হিন্দু ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সকালে আসতে হবে। এ সময় ওই যুবক মন্দিরের থামের আড়ালে গিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তার হতে থাকা ব্যাগটি মন্দিরের গেটের বাইরে থাকা সঙ্গীদের কাছে দিয়ে আবারও মন্দিরে ঢুকে পুরোহিতের খোঁজ করেন। কিন্তু না পেয়ে তারা মন্দিরের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে চলে যান।
এসপি বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মন্দিরের ভেতর ও বাইরে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেখানে মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করা যুবকের হাতে একটি ব্যাগ দেখা গেছে—ওই ব্যাগে চাপাতি জাতীয় অস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসপি বলেন, ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে পুরোহিতের উপর হামলার উদ্দেশ্যে সন্দেহভাজন ওই যুবক মন্দিরে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু পুরোহিতকে না পেয়ে তাদের মিশন ব্যর্থ হয়েছে।