রাজধানীর গুলশান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিখোঁজ ১০ যুবকের যে তালিকা দেয়া হয়েছিল তাদের অনেকেরই পরিচয় বেরিয়ে আসছে।
বেশিরভাগই ঊচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং শিক্ষিত— এরমধ্যে দু'জন আবার সহোদর। তবে নিখোঁজদের বিষয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না তাদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যরা।
গুলশান রেস্তোরাঁয় হামলা চালানো জঙ্গিদের বেশিরভাগই ঊচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। হামলার কয়েক মাস আগে তারা নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানের খোঁজে থানায় জিডিও করা হয়েছিল।
হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ-খবর শুরু করে— নিখোঁজ এমন ১০ যুবকের ছবি, পাসপোর্ট নম্বরসহ একটি তালিকা প্রকাশ করে পুলিশ।
এ তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরই অনেক পরিবার জানতে পারে তাদের সন্তান নিখোঁজ রয়েছে। এমনটাই দাবি কারও কারও পরিবারের সদস্যদের।
এদেরই দুজন জুন্নন শিকদার ও মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান—তারা নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রাজধানীর জিগাতলার বাসিন্দা জুন্নন শিকদার। তার বাবা ওয়াহিদুর রহমান। এক বছর কারাভোগ ও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে বাবার সঙ্গে মনোমালিন্যের জের ধরে ৮ মাস আগে জুন্নন বাড়ি ছেড়ে চলে যায় বলে দাবি তার পরিবারের। ১৫ দিন আগে মালয়েশিয়া আছে বলে সে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার লালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ছেলে বাসারুজ্জামান ২০০৭ সালে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে শ্বশুড়বাড়ি থেকে ৬-৭ মাস আগে সে নিখোঁজ হয়।
লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা এটিএম তাজউদ্দিন। তারাও জানতো না তাদের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এই ছেলে নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজের তালিকায় থাকা দুই সহোদর ইব্রাহিম হাসান খান ও জুনায়েদ হাসান খান থাকতেন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। তার বাবার নাম মনির হাসান খান।
আর এক নিখোঁজ আশরাফ মোহাম্মদ ইসলামের বাসা পান্থপথের একটি বহুতল ভবনে। এই দুটি পরিবারই এখন আড়ালে চলে গেছে।
নিখোঁজ তালিকায় থাকা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। তার আসল নাম সজিত দেবনাথ। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়উবাড়ি গ্রামের জনার্দন দেবনাথের ছেলে সে। ২০০১ সালে জাপানে পড়াশুনা শেষে অধ্যাপনা করতো সে। ১ বছর ধরে নিখোঁজ সাইফুল্লাহ।