গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলাকারী ৫ জঙ্গির অন্যতম নিবরাস ইসলাম গত চার মাস ঝিনাইদহের একটি মেসে সাইদ ছদ্মনামে অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলশান হামলার আগে নিবরাস ওই মেস ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
এদিকে, সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মেসটিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করেছে। মেসটিতে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিরা গত কয়েক মাসে ঝিনাইদহে দুই পুরহিতসহ পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে পৌরসভার ৩ নং পানির ট্যাঙ্কি এলাকার সোনারীপাড়ায় বসবাস করেন সাবেক সেনা সার্জেন্ট কাওসার আলী। ৪ মাস আগে তার বাসার মেসে ভাড়া নেন গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলাকারী জঙ্গিদের অন্যতম নিবরাস ইসলাম।
তবে ঢাকার ধনী পরিবারের ছেলে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নিবরাস এখানে সাইদ ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে তিনি এসেছেন বলে বাড়ির মালিককে জানিয়ে ছিলেন।
তাকে মেসটি ঠিক করে দেন স্থানীয় সোনালীপাড়া মসজিদের ইমাম রোকুনুজ্জামান রোকন। গুলশান হামলার নিবরাস মেস ছেড়ে চলে যান।
মেসের একজন গৃহ কর্মী জানিয়েছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের পর ঈদের আগের দিন রাতে নিবরাসের সেই মেস আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাসী চালায়। সেখান থেকে বাড়ির মালিক কাওসার আলীসহ দুই ছেলে বিনছার ও বিনজির এবং মসজিদের ইমাম রোকুনুজ্জামান রোকন ও হাফেজ সাব্বির নামে আরও একজনকে আটক করে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাইদ ভালো ফুটবল খেলতেন, কম কথা বলতেন, ইংরেজিতে ছিলেন পারদর্শী।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মোট ৫ জন আটক হলেও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
পুলিশ মনে করছে, নিবরাসের ওই আস্তানাটি কমপক্ষে ৮ জন জঙ্গি ব্যবহার করতেন আর তারাই ঝিনাইদহে দুই পুরহিত, এক খ্রিস্টান চিকিৎসক, শিয়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ও আওয়ামী লীগের আরো একজন নেতাকে জঙ্গি হামলায় খুন করেছে।
এরপর গত ১ জুলাই ঢাকার গুলাশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিবরাসসহ ৫ জঙ্গি।