রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর নিখোঁজদের যে তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাদের একজন মালয়েশিয়া ফেরত চট্টগ্রামের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ। জাহাজের চাকরি ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে ইরাকে গিয়ে যোগ দিয়েছেন জঙ্গি গ্রুপ আইএস-এ।
এই যুবক পরে পরিবারকে জানিয়েছেন—আর তিনি দেশে ফিরবেন না— এ কথা জানিয়ে সাবেক নৌ কর্মকর্তা বাবা চট্টগ্রামের ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
নজিবুল্লাহ আনসারী। শিক্ষা জীবন শুরু হয় চট্টগ্রামের হালিশহরের ক্যান্টনমেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০০৫ সালে এসএসসি এ ২০০৭ সালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০০৮ সালে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান মালয়েশিয়ায়। পরে স্কলারশিপ নিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঈগল ট্যাংক কোম্পানিতে যোগ দেন নজিবুল্লাহ। এক বছর পর দেশে ফিরে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ২০১২ সালে একটি বিদেশি জাহাজে নাবিক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
কিন্তু জাহাজ থেকে হঠাৎ একদিন ইরাকে চলে যান নজিবুল্লাহ। এরপর পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।
তার সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা যখন উদগ্রীব, তখন ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ফেসইবুকে ছোট ভাইকে জানান, তিনি জঙ্গিগ্রুপ আইএস-এ যোগ দিতে ইরাকে গিয়েছেন। আর ফিরবেন না দেশে।
ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছুদিন আগে সিইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন নজিবুল্লাহর বাবা রফিকুল্লাহ আনসারী।
বাবা নৌ কর্মকর্তা রফিকুল্লাহ আনসারী বলেন, সমুদ্র জয় করতে গিয়ে নজিবুল্লাহ আইএস-এ যোগ দেবেন, এটা তিনি ভাবতেও পারছেন না।
এতদিন নজিবুল্লাহর নিখোঁজের খবর পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার পর নিখোঁজদের ছবি প্রকাশিত হলে তা সবার নজরে আসে।