কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়া জঙ্গিরা ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামের বাড়িটিতে মেস ভাড়া নিয়েছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং চাকুরীজীবীর পরিচয়ে। বাড়ি মালিক নিজের ফ্লাটটি বাদে পুরো ভবনটিই মেস হিসেবে ভাড়া দেয়ায় জঙ্গীদেরও সমস্যা হয়নি মেস ভাড়া নিতে।
তবে আশপাশের বাসিন্দা এমনকি ওই ভবনের অন্যান্য তলার বাসিন্দারাও অপারেশনের আগে ঘুনাক্ষরেও টের পাননি এরা জঙ্গি গ্রুপের সদস্য। এ ঘটনার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকলেও এলাকাবাসীরা আছেন আতঙ্কে। বন্ধ রয়েছে আশপাশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
কল্যাণপুর ৫ নম্বর সড়কের বাড়িটি অনেকটা জাহাজের মতো দেখতে হওয়ায় এলাকাবাসীর কাছে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামেই পরিচিত। বাড়ির মালিক প্রবাসী আতাহার উদ্দিনের স্ত্রী ও পুত্র থাকেন দোতলায়।
দোতলা ছাড়া পুরো ভবনটিই মেস হিসেবে ভাড়া দিয়ে আসা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং চাকুরীজীবীর পরিচয় দিয়ে জঙ্গিরাও ভাড়া নেয় ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটটি। আশপাশের দোকানদার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী মাসখানেক আগেই এখানে আশ্রয় নেয় তারা।
ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকেন কুড়িগ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসান। পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করেন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে। সোমবার রাতে পুলিশের অভিযান থেকেই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে ভেতরে আটকে পড়ে সেও। বাইরে অপেক্ষায় থাকা ভাইকে ফোনে জানান ভেতরের খবর।
অপারেশনের শুরুতে বেশ কয়েকজন যুবককে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলেও জানান কয়েকজন। তবে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি কেউ।
নিজের বাড়ির পাশের ভবনেই জঙ্গিরা ছিল অপারেশনের আগে কখনো টের পাননি ৪৮ নম্বর বাড়ির মালিক আবু তাহের। ভোরে গোলাগুলির শব্দে ঘুম ভাঙে তার।
অপারেশনের শুরু থেকেই বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় এলাকায়। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। বন্ধ করে দেয়া হয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।