কল্যানপুরের ঘটনায় ১০ জন জঙ্গির নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়েছে মিরপুর মডেল থানায়। এতে জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামী করা হয়েছে।
আর আহত অবস্থায় আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছে।
রাজধানীর কল্যানপুরের জঙ্গি অভিযানে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের কাছ থেকে গুরত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তা দেয়া তথ্য থেকে পুলিশ নিশ্চিত সাম্প্রতিক জঙ্গিকর্মকাণ্ডের মূল হোতা তামিম চৌধুরী।
আসামীর তালিকায় ১ নম্বরে আছে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া রাকিবুল হাসান রিগ্যানের নাম।
বাকী ৯ জন পলাতক আসামীর মধ্যে; ইকবাল, তামিম চৌধুরী, রিপন, খালিদ, মামুন, মানিক, জুনায়েদ খান, বাদল ও আজাদুল ওরফে কবিরাজ।
এদেরকেই অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী, প্রশিক্ষক ও পরামর্শদাতা হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎসের সন্ধানও পেয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশে জেএমবির যে অংশটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের অনুসারি হয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তার শীর্ষ নেতা তামিম বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বছর দুয়েক আগে তামিম বাংলাদেশে এসে আত্নগোপন করে জঙ্গি কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে বলেও তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
গুলশানে জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথমে যে নিখোঁজ ১০ জনের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে তামিমের নাম উল্লেখ আছে। ওই তালিকায় থাকা জুনায়েদ খানও কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত করতো বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
আহত হাসানের দেয়া তথ্যানুযায়ি কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় মামলায় উল্লেখ করা ১০ জনই নিয়মিতই আসতো।
নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক এদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থ, অস্ত্র, গোলা-বারুদ, বিস্ফোরকের জোগান দেয়াসহ প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে প্ররোচনা দিত বলেও উল্লেখ রয়েছে।
আর আস্তানা থেকে উদ্ধার করা মালামালের ২টি জব্দ তালিকায় মোট ৫৪ ধরণের উপাদান মামলার জব্দ দেখানো হয়েছে।
আলামতের মধ্যে পাওয়া পেনড্রাইভে মিলেছে কথিত আইএস-পোশাকে তোলা নিহত জঙ্গিদের ছবি। যা গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গিদের তোলা ছবির সঙ্গে এসব ছবির অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ধারণা করা হচ্ছে, গুলশান হামলার জঙ্গিদের মতোই কোনো হামলা চালানোর পর আইএস-এর আমাক ম্যাগাজিনে যে কোনো মাধ্যমে পাঠানো হতো এসব ছবি।
এছাড়াও বেশ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ যাতে জিহাদ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এগুলোর যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।