রাজধনীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মূলহোতা তামিম চৌধুরী বা এ ঘটনার নেপথ্য হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো খুঁজছে জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ডদের।
গুলশান-শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরের আস্তানার জঙ্গিরা জেএমবির সদস্য বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আইএস নয় বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালেই এসব ঘটনা বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে বেশ অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এসব ঘটনার পিছনের সব বিষয় উদঘাটিত হবে।
গত ১ জুলাই গুলশানে রেস্তোরায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতে এক সপ্তাহ পর শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা ঘটনা ঘটে। খুঁজে পাওয়া যায় গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার যোগসূত্র।
এর ১৯ দিন পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন স্পটে অভিযান চালাতে গিয়ে রাজধানীর কল্যাণপুরের আস্তানায় জঙ্গিদের মুখোমুখি হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের অভিযানে মারা পরে ৯ জঙ্গি। নিহতদের মধ্যে ছিল তাদের এক প্রশিক্ষকও।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তাদের তৎপরতায় জঙ্গিদের তৃতীয় হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বড় ধরণের হামলা থেকে থেকে রক্ষা পেয়েছে সাধারণ মানুষ।
তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে এসব হামলার পিছনের হোতাদের নাম। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলা এবং কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে যোগসূত্রও খুঁজে পাওয়া যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা তদন্তে নিশ্চিত যে, জঙ্গি তৎপরতার মূলহোতা বাংলাদেশি বংশদ্ভুত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী। তাকে ও কল্যাণপুরে অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া আরেক জঙ্গিকে এখন খোঁজা হচ্ছে।
আর তাদের সন্ধান বের করার জন্য ভারতের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
জানা গেছে, এসব জঙ্গি প্রশ্রিক্ষণ নিয়েছে গাইবান্দার সাদুল্যাপুর চরে। তারা ভাগ ভাগ হয়ে বিভিন্ন মিশনে নামে। হামলার আগে ঝিনাইদহ, বারিধারা, কিশোরগঞ্জে ও কল্যাণপুরে আস্তানা গাড়ে। জঙ্গিরা বারবার তাদের আস্তানা পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াত। সনাতনি পদ্ধতিতে জঙ্গি হামলা চালিয়ে কাজ না হওয়ায়, প্রযুক্তি নির্ভর, উচ্চ শিক্ষিত ও বিত্তবানদের সন্তানদেরকে টার্গেট করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব ঘটনার যোগসূত্র একই দাবি করে বলা হয়েছে, দ্রুতই এর পিছনের রহস্য উন্মোচিত হবে।
এসব হামলা দেশিয় জঙ্গিরাই সংগঠিত করছে, তারা তাদের মতো কাজ করে আইএসকে জানায়।
তবে তাদের নেতৃত্বে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এসব ঘটনার মাস্টামাইণ্ডদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে আরো জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথাও জানান তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইএস ফমূর্লা ব্যবহার করে এর নেতৃত্ব দিচ্ছে যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল জামাত।
তাদের অর্থদাতাও এ দলটি উল্লেখ করে তারা বলেন, কঠোর হস্তে এদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া উচিত।
তাহলে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না বলেও মত তাদের।