সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত পলাতক মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম বা আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান বলে ধারনা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজধানীর গুলশান, শোলাকিয়ার ঘটনায় জিয়া মাস্টারমাইন্ড বলেও জানিয়েছে তারা। জিয়াউল হক এবিটির নতুন প্রধান সমন্বয়কও বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর থেকে পলাতক আছেন জিয়াউল হক। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুর গ্রামে।
গত ৩০ জুন রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা করে জঙ্গিরা। রাতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২০ জনকে হত্যা করে তারা। ভোরে কমান্ডোরা আভিযান চালানো রেস্তোরাঁয়। অভিযানে নিহত হয় ৫ জঙ্গি।
এই হামলা সপ্তাহ খানের পর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে হামলার চেষ্টা করে জঙ্গিদের আরেকটি দল। এসময় তাদের হামলা নিহত হয় দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া পুলিশের গুলিতে নিহত হয় এক জঙ্গি। আর এক নিরীহ নারী।
এসব ঘটনার রেশ কাটাতে না কাটতেই রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান নিহত হয় ৯ জঙ্গি।
এরইমধ্যে এসব ঘটনায় তদন্ত করতে থাকে আইন-শৃঙ্খলা বহিনী। তাদের তদন্তে প্রতিদিনই নতুন তথ্য উঠে আসে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশের সামনে আসে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা জিয়াউল হকের নাম।
তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে জিয়াউল হকের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুর গ্রামে। তিনি আগে থেকে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে জড়িত ছিলো বলে জানা যায়। ২০১১ সালে জিয়া সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। এসময় তার এ চক্রান্ত সেনাবাহিনী জানতে পারে। এসময় জিয়ার অভ্যুত্থানের চেষ্টা ভেস্তে যায়।
এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকে জিয়াউল হক। তাকে ধরতে ইন্টারপুলেরও সাহায্য চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে জিয়া এবিটির সঙ্গে যুক্ত আছেন।