রাজধানীর গুলশান-শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার মূলহোতা জেএমবি নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক দেশেই আত্মগোপনে আছে বলে ধারনা করছে পুলিশ। তাদের ধরতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্লা বাহিনী— ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। তারা যাতে পালাতে না পারে সেজন্য সীমান্তে রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারি। একই সঙ্গে তাদের ধরতে ভারতের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
গুলশান-শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা এবং কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত যে এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে জঙ্গি গ্রুপ-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম বা আনসার আল ইসলাম ও জেএমবি। এদের নেতৃত্বে থাকা দুই জঙ্গি নেতার পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত হয়েছেন তারা। পুলিশ ধারনা দেশেই আত্মগোপনে আছে জঙ্গি হামলার এ দুই হোতা।
তাদের ধারণা ২০১২ সালে সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আর নতুনভাবে সংগঠিত জেএমবির একাংশের হোতা তামিম আহমেদ চৌধুরী।
তাদের নেতৃত্বে দুটি জঙ্গি হামলা হওয়ার পর তৃতীয় হামলাটি হওয়ার আগেই এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই কল্যাণপুরের সফল অভিযানে নিহত হয় নয় জঙ্গি।
এ দুজনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই গতকাল পুলিশপ্রধান এ কে এম শহীদুল হক তাদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
দেশে ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, লেখক-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী, বিদেশি নাগরিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন মেজর জিয়া, জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।
পুলিশ জানিয়েছে, এদের ধরতে সারাদেশে কঠোর নজরদারির মধ্যে অভিযান চলছে, দেশের সবগুলো সীমান্তেই কড়া নজর রাখা হয়েছে। তারা আশা করছেন, খুব শিগগিরই ধরা পড়বে দেশে জঙ্গি হামলার এ দুই প্রধান হোতা।