পুলিশের নিখোঁজ তালিকায় যে দুজন নারীর নাম এসেছে তারা সর্ম্পকে দুই বোন। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এরমধ্যে সায়মা আক্তার মুক্তার স্বামী সাইফুল হক সুজন ২০১৫ সালে সিরিয়ায় আইএস বিরোধী হামলায় নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া বোন রাবেয়া আক্তার টুম্পাসহ মুক্তা গত কয়েক বছর ধরেই নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের করফা গ্রামের প্রয়াত ছোলেমান শেখের মেয়ে সায়মা আক্তার মুক্তা ও রাবেয়া আক্তার টুম্পা স্বামী-সন্তানসহ কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ বলে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে।
মুক্তা ও টুম্পার বিয়ে হয়েছিল খুলনার পাকুরতিয়া গ্রামের একেএম আবুল হাসনাতের দুই ছেলে সাইফুল হক সুজন ও শরীফুল হক ইমনের সঙ্গে।
এদের মধ্যে মুক্তার স্বামী সুজন ২০১৫ সালে সিরিয়ায় আইএসের আস্তানায় বিমান হামলায় নিহত হন বলে টুঙ্গীপাড়া থানার ওসি মো. মাহমুদুল হক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মুক্তার স্বামী সাইফুল হক সুজন সিরিয়ায় আইএস বিরোধী হামলায় ২০১৫ সালের দিকে মারা যান। ওই সময় তিনি আইএস ঘাঁটিতেই ছিলেন।
ওসি মাহমুদুল বলেন, এ ঘটনার পর জঙ্গি অর্থায়নে সহযোগিতার অভিযোগে রাজধানীর কারওয়ানবাজার থেকে সুজন-ইমনের বাবা হাসনাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ—বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, মুক্তা ও টুম্পার সঙ্গে টুঙ্গীপাড়ায় তাদের বাবার বাড়ি করপাড়া এবং শ্বশুরবাড়ি খুলনার পাকুড়তিয়া গ্রামের কোনো যোগাযোগ নেই।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সুজনের সর্বশেষ বাসার ঠিকানা ছিল খুলনার ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এবং ইমনের সর্বশেষ ঠিকানা ছিল ঢাকার মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ১ নম্বর গেটের পাশে। তবে ওই এলাকায় গিয়ে খোঁজ করেও দুজনের কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে, বুধবার মুক্তা ও টুম্পার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গীপাড়ার করফা গ্রামে গিয়ে তাদের পরিবারের কারো সন্ধান মেলেনি— ওই বাড়িতে তাদের দূর সম্পর্কের চাচা আসাদ শেখ ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন।
বিউটি বেগম বলেন, ছোলেমান শেখের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই— ছোলেমান খুলনায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। সেখানেই তার মেয়েরা বড় হয়েছে, বিয়ে দিয়েছে।
খুলনার পাকুড়তিয়া গ্রামবাসী থেকে জানা গেছে, এ গ্রামের আবুল হাসনাতের ছেলে ও সাইমা আক্তার মুক্তার স্বামী সাইফুল হক সুজন গতবছর সিরিয়ায় আইএসের আস্তানায় রুশ হামলায় নিহত হন বলে এলাকার সবাই জানে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের ওই সূত্র বলছে, এ দুই বোন তাদের স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে সিরিয়ায় যান সবাই। সেখানেই আইএসবিরোধী হামলায় মারা পড়েন সুজন। তবে মুক্তা ও টুম্পা এখন সিরিয়া না বাংলাদেশে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের এ দুই বোনের পাশাপাশি আরো চার জনের নিখোঁজের তথ্য রয়েছে্।
তারা হলেন- সাবেক সচিব মোহাম্মদ মূসা সাদিকের ছোট ছেলে সাইমুন হাছিব মোনাজ, গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়াবাজার গ্রামের মৃত তৌহিদুল ইসলামের ছেলে মো. রিদওয়ান ইসলাম তুহিন, আশুলিয়ার টুঙ্গাবাড়ীর আবদুর রহমান মাসুদ এবং বগুড়ার একেএম তাকিউর রহমান।