রাজধানীর গুলশান হামলার ঘটনা তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে এবং তদন্ত সঠিক পথে এগুচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান ।
তিনি আরো বলেন, তাহমিদ ও হাসনাত করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসনাত ও তাহমিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে— তাদের গুলশান হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলেই ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
হাসনাত ও তাহমিদ আটদিনের রিমান্ডে আছে- এ কথা জানিয়েছে মনিরুল বলেন, গুলশান হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি-না রিমান্ড শেষে তদন্তকারী সংস্থা তা জানাবে। তদন্তের এ পর্যায়ে তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে কথিত অনুসন্ধানের নামে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য আমরা গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
হলি আর্টিজানে হামলার সময় সেখানেই পরিবারসহ অবস্থান করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম। এছাড়া হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার একদিন আগে দেশে ফেরা কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানও সেদিন ওই রেস্তোরাঁতেই ছিলেন। তবে ২ জুন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের আগেই তারা আরো কয়েকজনের সঙ্গে হলি আর্টিজান থেকে বেরিয়ে আসেন।
অবশ্য হলি আর্টিজান থেকে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মধ্যে যে কয়জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের মধ্যে হাসনাত করিম ও তাহমিদও ছিলেন। পরে এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে আটক করে পুলিশ।
গত ৪ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ— শুনানি শেষে আদালত দু'জনকেই আট দিন করে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।
গুলশান হামলার ঘটনা তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে এবং তদন্ত সঠিক পথে এগুচ্ছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম। অস্ত্রের জোগানদাতাসহ অনেককেই প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গুলশান ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন তামিম আহমেদ চৌধুরী কল্যাণপুরে অভিযানের সময় ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
তাকেসহ চাকুরিচুত্য মেজন জিয়াকে ধরতে অভিযান চলছে। এ দুজনের পরিবর্তীত চেহারার ছবিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। ভারতে প্রবেশ করলে তাদের গ্রেপ্তারে দেশটির কাছে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই (শুক্রবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।
এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরও ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন।