গুলশান হামলার সন্দেহভাজন হোতা মারজান সম্পর্কে তথ্য চেয়ে গত শুক্রবার ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপে ছবি প্রকাশ করে পুলিশ। সেখানে তাকে গুলশান হামলায় অপারেশন কমাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১২ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যম তার ছবি প্রকাশ করে।
তার পুরো নাম নুরুল ইসলাম মারজান, গ্রামের বাড়ি পাবনার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে। প্রায় ৮ মাস ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বাবার নাম নিজামউদ্দীন, যিনি পেশায় একজন গেঞ্জি তৈরির কারিগর।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা নিজাম উদ্দিনকে আটক করেছে।
সোমবার পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হামলার রাতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত জঙ্গিরা মারজানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং হামলায় নিহতদের ছবি তুলে মারজানসহ কয়েকজনের কাছে পাঠায়। তাই গুলশান ঘটনায় মারজানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল বলে জানায় পুলিশ।
২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হন মারজান। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মারজান নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার পরিবার জানায়।
এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারজান আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশকে দেয়া অনুপস্থিত ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে নুরুল ইসলাম মারজানের নাম ছিলো না বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ, গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজানে একদল অস্ত্রধারী তরুণ হামলা চালালে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়। পরদিন ভোরে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। ওই সময় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা।
অভিযানে মৃত্যু হয় সন্দেহভাজন ৫ জঙ্গিসহ ছয় জনের। আইএস হামলার দায় স্বীকার করে ৫ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করলেও পুলিশ দেশিয় জঙ্গি দল জেএমবিকে দায়ী করে আসছে।