গুলশান হামলার অন্যতম হোতা নুরুল ইসলাম মারজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি বিভাগের সাবেক ছাত্র ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় সে ছিল শিবিরের নেতা। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকালে আরবি বিভাগে তল্লাশি চালায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এসময় বিভাগের সেমিনার কক্ষে জামাতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর লেখা ও জঙ্গি উস্কানিমূলক বিপুল পরিমান বই উদ্ধার করে। পরে ইসলামী শিক্ষা বিভাগেও অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকেও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে পাঠানো নিখোঁজদের তালিকায় মারজানের নাম কেন ছিল না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মারজান ২০১৫ সালে ২য় বর্ষে ১০টি পরীক্ষার মধ্যে ৬টিতে অংশ নেয়। ২টি বর্ষে অনুপস্থিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব বাতিল করে। পরে সে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনঃভর্তি হতে পারেনি।
উল্লেখ, গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজানে একদল অস্ত্রধারী তরুণ হামলা চালালে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়। পরদিন ভোরে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। ওই সময় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা।
অভিযানে মৃত্যু হয় সন্দেহভাজন ৫ জঙ্গিসহ ছয় জনের। আইএস হামলার দায় স্বীকার করে ৫ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করলেও পুলিশ দেশিয় জঙ্গি দল জেএমবিকে দায়ী করে আসছে।