রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলায় গ্রেপ্তার নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার বিকেলে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের আদালতে হাজির করা হলে তিনি এ নির্দেশ দেন। আগামী ২৪ আগস্ট তার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
এর আগে হাসনাত করিমকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে তাকে গুলশানে হামলার মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৩ আগস্ট আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
আজ (সোমবার) হাসনাত করিমের দুই দফায় ১৬ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে— উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে এখন আর রিমান্ড চাইবে না পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রাতে জঙ্গিরা গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোরা অভিযান চালিয়ে হলি আর্টিজান থেকে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জনকে ডিবির কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খান ছাড়া অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়।
গত ৮ জুলাই পুলিশ হাসনাত ও তাহমিদকে ছেড়ে দেয়ার কথা জানালেও তারা বাসায় ফিরে যাননি বলে তাদের পরিবার জানিয়েছিল।
পরে ৩ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাহমিদকে এবং গুলশানে আড়ংয়ের সামনে থেকে হাসনাতকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ।
পরে রাতেই তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন ৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করে আট দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট হাসনাত করিম ও তাহমিদকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় হাসনাত করিমকে গুলশানে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন এবং তাহমিদকে ৫৪ ধারায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে পৃথক আদালত হাসনাত করিমকে ৮ দিন এবং তাহমিদকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
প্রসঙ্গত, হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০ নাগরিক নিহত হন। জঙ্গিদের হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের ২ জন কর্মকর্তা।
পরদিন সকালে সেনা নেতৃত্বে অভিযানের মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকটের অবসান হয়। ওই অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ মোট ৬ জন নিহত হয়।