কোনো রকম খুন্তির ছ্যাঁকা দেননি তাকে— মানুষের পরামর্শে এ মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপি (১১)।
গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেছে নির্যাতিতা হ্যাপি।
রাষ্ট্রপক্ষ তাকে বৈরী সাক্ষী (যে সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেয় না) ঘোষণা করে জেরা করেছে।
বুধবার দুপুরে ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল ৩১ আগস্ট পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহান।
গৃহকর্মী হ্যাপি আদালতকে বলে, সে ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের বাসায় কাজ করতো। কাজ করতে ভালো লাগত না। এ কারণে শাহাদাতের স্ত্রী বকাঝকা করত। এক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। এজন্য চিকিৎসাও দেয়া হয় তাকে। কোনো রকম খুন্তির ছ্যাঁকা দেয়া হয় নি। আগে মানুষের কথায় এই মামলা করে হ্যাপি।
হ্যাপির এই জবানবন্দির পর তাকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর গৃহকর্মী হ্যাপিকে নির্যাতনের অভিযোগে ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রী জেসমিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন খন্দকার মোজাম্মেল হক। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর এ মামলায় পুলিশি তদন্ত শেষে শাহাদাত ও জেসমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই মামলায় জেসমিনকে মালিবাগে তার বাবার বাসা থেকে ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তার রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
৫ অক্টোবর শাহাদাত আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শাহাদাতকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে এই দম্পতি জামিনে মুক্তি পান।