গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে বরাবরই নাম উঠে এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর। এমনকি তাকে বাংলাদেশে জঙ্গিদের নতুন ধারায় তৎপরতার নেপথ্য ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিতও করেছিলো পুলিশ।
পাশাপাশি তামিমকে ধরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলে। এরইমধ্যে শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন এ তামিম চৌধুরী।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরী, জন্ম সিলেটে। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মজিদ চৌধুরীর নাতি।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, মজিদ চৌধুরী একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।
তামিমের বাবা শফি আহমেদ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান। কানাডার উইন্ডসরে থাকার সুবাদে ৩০ বছর বয়সি তামিমের বেড়ে ওঠাও সেখানে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি তিন সন্তানের জনক।
পুলিশ বলছে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান তামিম। তার নির্দেশনাতেই গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
আর এ হামলার মামলা তদন্তে বারবার উঠে আসে তামিম চৌধুরীর নাম।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তথ্য আনুযায়ী, বাংলাদেশে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী। কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী বাংলাদেশ শাখাপ্রধান হিসেবে যে আবু ইব্রাহিম আল হানিফের নাম ঘোষণা করেছিল তিনিই তামিম বলে ধারণা করা হয়। তাকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় ঘরছাড়া তরুণ-যুবকদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজ যে ১০ জনের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল তাতে সিলেটের তামিমের নাম আসে।
উল্লেখ্য, নারায়াণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন তামিম। অপারেশন হিট স্ট্রং-টোয়েন্টি সেভেন অভিযানে তামিম চৌধুরী ছাড়াও আরো ২ জন নিহত হন।