রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেব আটক তাহমিদ হাসিব খানের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাহমিদ হাসিব খান গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িত না থাকায় তার বিষয়ে আদালতে মুক্তির জন্য তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কল্যাণপুরে আটক জঙ্গি রিগানের জবানবন্দিতে বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।
তার বক্তব্যের কারণে গুলশান হামলা মামলার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
এছাড়া, নব্য জেএমবির বেশ কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড অভিযানে নিহত হলেও যারা জীবিত তাদের ধরতে পারলে আরো অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম লস্কার সোহেল রানা সন্দেহভাজন হিসেব আটক তাহমিদ হাসিব খানের জামিন মঞ্জুর করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খান জামিন পান– এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মো. আনিসুর রহমান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় তাহমিদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য–প্রমাণ না পাওয়ায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আগামী ৫ অক্টোবর ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছে আদালত।
আদালতে তাহমিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী হামিদুর রহমান।
উল্লেখ, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। গুলশানে হামলার ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩ আগস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সেটা জানানো হয়। এ মামলায় দুজনকে আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে পুলিশ হাসনাতকে হামলার ঘটনায় হওয়া মূল মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। আর তাহমিদকে ৫৪ ধারার মামলায় পুনরায় রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে ২০ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
প্রসঙ্গত: গত ১ জুলাই –শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিস রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। রাতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে তারা। পরে ৩ বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোরে যৌথবাহিনীর কমান্ডো অভিযান থান্ডারবোল্টের মাধ্যমে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।