যশোরে পুলিশের নিখোঁজ তালিকায় থাকা হিজবুত তাহরীরের এক নেতাসহ তিন ভাই-বোন ফিরে এসেছেন—জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, পোস্টার ছাপিয়ে যে ১১ জনের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছিল তাদের মধ্য থেকে এ তিন ভাই-বোন পুলিশের কাছে হাজির হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, যশোর শহরের পুরাতন কসবা কদমতলার আব্দুল আজিজের সন্তান। তাদের মধ্যে তানজিব হিযবুত তাহরীরের ‘মোশরেক’ সদস্য ও বাকিরা সংগঠনটির কর্মী।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ১১ জন পলাতক জঙ্গির তালিকা প্রকাশ করে যশোর পুলিশ। এর মধ্যে চার ভাই-বোনসহ ৬ জন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন শহরের পুরাতন কসবা কদমতলার আব্দুল আজিজের ছেলে তানজিব ওরফে আশরাফুল, তার ভাই তানজির আহমেদ, বোন মাছুমা আক্তার ও মাকসুদা খাতুন, মাকসুদার স্বামী শাকির আহমেদ ও মাছুমার স্বামী নাজমুল হাসান।
এরমধ্যে তানজিব, তানজির ও মাছুমা বিভিন্ন সময়ে আটক হলেও আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার পর সরকারের আহ্বান ও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সোমবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তারা। এ সময় না বুঝেই জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন বলেও জানান এই তিন জন।
কেউ যদি স্বেচ্ছায় চরমপন্থি সংগঠন ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায় তাহলে তাদেরকে সুযোগ দেয়া হবে জানান পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার লক্ষে গত ১১ ও ২১ আগস্ট হিজবুত তাহরিরের চার নেতা যশোর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
যশোরের পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন করে ১১ জনের নামে পোস্টার ছাপানোর কথা জানিয়ে তাদের বিষয়ে তথ্য দেয়ার আহ্বান জানান। ওই পোস্টারে শুধু আটজনের ছবিসহ পরিচয় ছিল, বাকিদের পরিচয় থাকলেও ছবি দেয়া হয়নি।
বাকি পাঁচ জন হলেন- রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়ির মুসাব্বির ওরফে প্রকাশ ওরফে তন্ময় (৩০), ঢাকার আশকোনা দক্ষিণখান ৪০১ কলেজ রোডের হারেজ আলী (২৭), যশোরের মণিরামপুরের জিএম নাজিমউদ্দিন ওরফে নকশা নাজিম, চাঁচড়া বেড়বাড়ির মহিউদ্দিন এবং শার্শার মেহেদি হাসান ওরফে জিম ওরফে হুসাইন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানজিব হিজবুত তাহরীরের নেতৃস্থানীয় ‘মোশরেক’ সদস্য এবং তিনি নিজের বাসায় হারেজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে অন্যদের ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ’ দিতেন।
গতবছর তানজিব,ও মাসুমাকে আটক করলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি কৌঁসুলিরা জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালত তাদের জামিন দেয়।