জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রাশিদুন নবী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরিজম ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম এ কথা জানান।
এ সময় তিনি বলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের কাছে রাশিদুন নবী স্বীকার করেছে সে প্রকাশক আহমেদ রশীদ টুটুল হত্যা চেষ্টা ও কলাবাগানে জুলহাস মান্নান-তনয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
মনিরুল বলেন, ধর্মীয় মতাদর্শের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড বলেও জানিয়েছে সে।
তিনি আরো বলেন, ওই হত্যা মিশনে অংশ নেয় আনসার আল ইসলামের পাঁচ সদস্যের একটি দল— এর নেতৃত্বে ছিল গ্রেপ্তার হওয়া রাশিদুন নবী।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল সিম দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, হুমকির বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
এর আগে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে রাশিদুন নবী নামে একজনকে ধৃত করা হয়েছে।
জবির আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র নাজিম সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম সারির কর্মী ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধী, মৌলবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি।
গত ৬ এপ্রিল ক্লাশ শেষে ক্যাম্পাস থেকে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার বাসায় ফেরার পথে তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।