গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কুতুবদিয়া এলাকার স্কুলছাত্রী মুন্নি আক্তার হত্যার প্ররোচনাকারী যুবক আরাফাত আত্মহত্যা করেছে।
আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী যুবক আরাফাত হোসেন ওই এলাকার শ্রমিক নেতা আতাউর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুররে রতনপুর এলাকায় ফুফুর বাড়িতে আরাফাতের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখে পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির আত্মহত্যার পর ছেলেটি নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে পাশের আরেক গ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে চলে যায়। সেখানেই রাতের কোনো এক সময় গলায় ফাঁস নিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।
স্বজনরা সকালে ছেলেটির মরদেহ ফুপুর বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে সুরতহাল করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
পরিদর্শক রফিকুল বলেন, কালিয়াকৈরের একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের সঙ্গে সেই মেয়েটির ‘প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল’ বলে দাবি করেছেন ছেলেটির মা।
ছেলেটির মা বলছেন, এই সম্পর্ক নিয়ে অভিভাবকদের আপত্তি ছিল। মঙ্গলবার রাতে তার ছেলে গোপনে ওই মেয়ের বাড়িতে যায়। তাদের এক ঘরে পেয়ে মেয়েটির পরিবার মারধর করে ছেলেটিকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর মেয়েটি আত্মহত্যার খবর শুনে ছেলেটি ফুপুর বাড়িতে গিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেছে।
রফিকুল বলেন, দুজনের তোলা একটি ছবিও তারা ছেলেটির বাসায় পেয়েছেন--দুই পরিবারের বক্তব্যও তারা খতিয়ে দেখছেন।
এরআগে, স্কুল ছাত্রী মুন্নী স্কুলে যাওয়ার সময় আরাফাত রাস্তায় বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জের ধরে মঙ্গলবার বাড়িতে ঢুকে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে আরাফাতের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিহত মুন্নির বাবা বাদি হয়ে কালিয়াকৈর থানায় আরাফাতকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মুন্নির মৃতদেহ উদ্ধারের পর পরই পালিয়ে যায় আরাফাত। তবে ওই যুবকের আত্মহত্যার পর বিষয়টি নিয়ে নানা কথার গুঞ্জন উঠেছে।