দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ধর্ষিত পাঁচ বছরের শিশুটির প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণের শঙ্কা থাকায় এখনই অস্ত্রোপচারে করা হবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আশরাফ উল হক কাজল বলেন, শিশুটিকে উচ্চ ক্ষমতার ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার দেয়া হচ্ছে।
শিশুটির জন্য নয় সদস্যেভর মেডিকেল বোর্ড করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিশুটির প্রজনন অঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে, যার কারণে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। যদি সংক্রমণ রক্তে ছড়ায় তাহলে বিষয়টি ভয়বহ হবে।
শিশুটির পুষ্টির অভাব রয়েছে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুটিকে পুষ্টিকর খাবার দেয়া হচ্ছে আর আর তার প্রজনন অঙ্গে অস্ত্রোপ্রচার করতে দেড় থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলায় আসামি সাইফুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। দিনাজপুর আমলি আদালত-৫-এর বিচারক কৃষ্ণ কমল এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বপন কুমার চৌধুরী বেলা পৌনে ৩টায় তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনের ওপর শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না—তিনি নিজেই জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় সরকারি কৌঁসুলি সলিমুল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ, গত ১৮ অক্টোবর শিশুটি নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই দিন তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ভোরে শিশুটিকে তার বাড়ির কাছে হলুদখেতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে শিশুটি এখন ঢাকা মেডিকেলে। ওর মাথা, গলা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঊরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকার ক্ষত। শিশুটির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড শিশুটিকে পর্যবেক্ষণ করেছে। শিশুটির প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণ দেখা গেছে। এই সংক্রমণ এখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা ২০ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সাইফুল ইসলাম (৪২) ও আফজাল হোসেন কবিরাজ (৪৮) নামের দুজনকে আসামি করা হয়। ২৪ অক্টোবর রাতে দিনাজপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার হয় সাইফুল। তবে আফজাল পলাতক।