রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড তৈরির কাঁচামাল ও অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হল- মো. আবু তাহের (৩৭), মিজানুর রহমান (৩৪), মো. সেলিম মিয়া (৪৫) ও তৌফিকুল ইসলাম ওরফে ডা. তৌফিক (৩২)। সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরো জানান, তাদের কাছ থেকে ৭৮৭টি ডেটোনেটর ও একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার রাতে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম মণ্ডল ওরফে শফিকুল ইসলামকে ছয়টি বিদেশি পিস্তল, চারটি বিদেশি ওয়ান শুটার গান, ১২টি ম্যাগজিন ও ৩৫ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ী বিহারের মুঙ্গের থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে এনেছেন। তবে তিনি বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত এ অস্ত্রের বাহক ছিলেন।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের অনলাইন সংস্করণে ভারতীয় জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ ) বরাত দিয়ে উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয় যে, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় তৈরি করা হয়। অস্ত্র কারিগররা ছিলেন পাকিস্তানের পেশোয়ারের দারা আদম খেল সম্প্রদায়ের। পাকিস্তান থেকে অস্ত্র কারিগররা প্রথমে বিহারের মুঙ্গের শহরে আসেন। সেখানে একে ২২ রাইফেল তৈরির সক্ষমতা দেখতে না পেয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গের মালদাতে আসে। মালদার একটি অবৈধ কারখানায় গুলশান হামলায় ব্যবহৃত একে ২২ রাইফেল তৈরি করা হয়।
উল্লেখ্য, হলির আর্টিজানে হামলার পর পুলিশ সেখান থেকে তিনটি একে ২২ রাইফেল ও পাঁচটি পিস্তল উদ্ধার করে। এদিকে হামলার পরপরই ঘটনার তদন্তে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশান হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। গত জুন মাসে আমের মৌসুমে ওই্সব আগ্নেয়াস্ত্র আমের ঝুড়িতে করে ভরে ট্রাকে করে ঢাকায় আনা হয়।
গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজানে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হন আরো ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন পুলিশ সদস্য।