ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবু জাফর বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এর আগে ১০ জনকে আটক করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম বলেন, সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম এবং ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাখাওয়াত হোসেন।
গত ২৮ অক্টোবার শুক্রবার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাসের ফেসবুক পাতায় 'ইসলামের অবমাননাকর' একটি পোস্ট পাওয়া যায়, যা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ওই দিনই রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। পরদিন পুলিশ তাকে আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেইসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নাসিরনগরে ১৫টি মন্দিরসহ হিন্দুদের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এর পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এদিকে, নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন নেতা সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।
তারা হলেন: সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া।
ঘটনা তদন্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।