যৌতুকের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মুন্নি বেগম নামের এক গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা হত্যার মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মুন্নি বেগমকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা হত্যার পর ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় মুন্নির বাবা বাদি হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেন থানায়। পুলিশ বলছে ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী।
ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পরীক্ষিতপুর গ্রামের মুন্নি বেগমের সঙ্গে চার বছর আগে রায়পুর ইউনিয়নের ছকরিকান্দি গ্রামের হানিফ মণ্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরেই এক ছেলের মা হন মুন্নি। কিছুদিন পর মুন্নির স্বামী বিদেশে চলে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকে। শ্বশুর, শাশুড়ি ও চাচা শ্বশুর বিভিন্ন সময় মুন্নিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো।
শনিবার রাতে আবারো নির্যাতন করলে মুন্নি বাবার কাছে ফোন করেন। রোববার আ. রহমান মেয়েকে আনার জন্য মুন্নির শ্বশুর বাড়ি গেলে তার শ্বশুর শাশুড়ি ও চাচা শ্বশুর সালিশের কথা বলে উঠানে বসিয়ে রেখে ঘরে যায় এবং ঘর থেকে বেরিয়ে মুন্নি মারা গেছে বলে জানায়।
মুন্নির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ যৌতুক না পেয়ে মুন্নির ওপর নির্যাতন করে শ্বশুরবাড়ি লোকজন। একপর্যায় তাকে হত্যা করে মৃতদেহ ঘরের ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করেছে।
এ ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে ইউডি মামলা করে মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছে। একই দিনে মুন্নির বাবা আব্দুর রহমান বাদি হয়ে মুন্নির শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, স্বামী, চাচা শ্বশুরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যার অভিযোগ করেন।
এ বিষয় নিয়ে পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।
এ ঘটনার পর মুন্নির শ্বশুর হানিফ মণ্ডল, শাশুড়ি রাহেলা বেগম ও চাচা শ্বশুর কানাই মণ্ডলসহ বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। মুন্নি মধুখালী পৌরসভার পরীক্ষিতপুর গ্রামের আ. রহমানের কন্যা।
এদিকে, মুন্নি হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের বিচারের দাবিতে সোমবার ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।